বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

দাঁড়াইতে দিলে বইতে চাই, বইতে দিলে শুইতে চাই: আইনমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মানবিকতা আন্দোলনের মাধ্যমে কামাই করা যায় না। আর আইন আইনের গতিতে চলবে।

শুক্রবার সকালে আখাউড়ায় সিরাজুল হক পৌর মুক্ত মঞ্চে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা হয়তো শুনে থাকেন, দোকানে, রাস্তাঘাটে, খালেদা জিয়া অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠাতে হবে। না হলে আন্দোলন হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তার পরিবারের ১৭ জন সদস্যসহ নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই সত্য জানার পরও খালেদা জিয়া মিথ্যা জন্মদিন পালন করেন জাতির এই শোকের দিনে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণের আস্থাহীন ভোটে তিনি (খালেদা জিয়া) একটি সংসদ বানিয়েছিলেন। সেই সংসদে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি আব্দুর রশিদকে বিরোধীদলীয় নেতা বানিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার বাসায় গেলেন। সেদিন গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। জননেত্রীকে বাসায় ঢুকতে দেওয়া হয় নাই। সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নয়, সমগ্র বাংলাদেশকে অপমান করা হয়েছিল।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও শেখ হাসিনা গত বছরের ২০ কি ২১ মার্চ আমাকে বলেছেন- বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি জেল খানায় আছেন। তার পরিবার একটা দরখাস্ত দিয়েছে। তুমি আইনের মারফত তাকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা কর।’

তিনি বলেন, ‘দুইটা শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে তাকে জেল থেকে বাইরে আনার সিদ্ধান্ত হয়। একটি হলো উনি (খালেদা জিয়া) বিদেশ যেতে পারবে না। আরেকটা হলো- তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন। এমন বলি নাই, তিনি হাসপাতালে যেতে পারবেন না। তিনি হাসপাতালে গেছেন একাধিকবার, সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।’

আনিসুল হক বলেন, ‘দাঁড়াইতে দিলে বইতে চাই, বইতে দিলে শুইতে চাই, আর শুইতে দিলে ঘুমাইতে চাই। এখন অবস্থা হইছে এই রকম। এখন বিদেশে যাইতে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা আইনে কোনো দরখাস্ত যদি নিষ্পত্তি হয়ে থাকে, সেই নিষ্পত্তিকৃত দরখাস্ত আবার পুনর্বিবেচনা করার কোনো সুযোগ থাকে না। …তার পরও ওনারা যা বলেছেন, তার কোথাও কোনো নজির আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সময় নিয়েছি।’

‘আর ওনারা (বিএনপি) সেই সময় নেওয়াকে দেখে বলছেন, আন্দোলন করবেন। এক দফা এক দাবি। মানবিকতা আন্দোলনের মাধ্যমে কামাই করা যায় না।’ যোগ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন আইনের গতিতে চলবে। আইন জিয়াউর রহমানের গতিতে চলবে না। আইন আপনাদের (বিএনপি) গতিতেও চলবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

পরে আখাউড়ার পাঁচশ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন আইনমন্ত্রী।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ ভূইয়া বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আইন সচিব গোলাম সারোয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুল রহমান, ইউএনও রুমানা আক্তার, পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com